নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬ | 25 বার পঠিত | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক: অনুমোদিত মূলধন ২ হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ হাজার কোটি টাকা করার উদ্যোগ নিয়েছে সিটি ব্যাংক পিএলসি। একই সঙ্গে ব্যাংকটির স্বতন্ত্র পরিচালক বাদে পরিচালকের সর্বোচ্চ সংখ্যা আটজন থেকে বাড়িয়ে ১০ জন করার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে পরিচালনা পর্ষদ। এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নে শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন নিতে বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) পাঠানো মূল্য সংবেদনশীল তথ্যে সিটি ব্যাংক জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ১৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের ৭০৬তম সভায় এসব প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। তবে প্রস্তাবগুলো কার্যকর করতে আসন্ন ইজিএমে শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন, সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং প্রযোজ্য সব আইন, বিধি ও প্রবিধান পরিপালন করতে হবে।
অনুমোদিত মূলধন বাড়বে ১ হাজার কোটি টাকা
সিটি ব্যাংকের বর্তমান অনুমোদিত মূলধন ২ হাজার কোটি টাকা। এই মূলধন বাড়িয়ে ৩ হাজার কোটি টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ। বর্তমানে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের মোট ২০০ কোটি সাধারণ শেয়ারে ব্যাংকটির ২ হাজার কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধন বিভক্ত রয়েছে।
প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ১ হাজার কোটি টাকা বেড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা হবে। একই সঙ্গে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের সাধারণ শেয়ারের সর্বোচ্চ সংখ্যা ২০০ কোটি থেকে বেড়ে ৩০০ কোটি হবে। অর্থাৎ অতিরিক্ত ১০০ কোটি সাধারণ শেয়ার ইস্যুর সুযোগ তৈরি হবে ব্যাংকটির।
পরিচালকের সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব
অনুমোদিত মূলধন বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সর্বোচ্চ সদস্যসংখ্যাও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে স্বতন্ত্র পরিচালক বাদ দিয়ে পরিচালকের সর্বোচ্চ সংখ্যা আটজন থেকে বাড়িয়ে ১০ জন করার কথা বলা হয়েছে।
এই পরিবর্তন কার্যকর করতে ব্যাংকের সংঘস্মারক ও সংঘবিধির সংশ্লিষ্ট ধারাগুলোও সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে পরিচালনা পর্ষদ। অর্থাৎ অনুমোদিত মূলধন বৃদ্ধি এবং পরিচালকের সর্বোচ্চ সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য ব্যাংকের সাংবিধানিক দলিলেও প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হবে।
বিশেষ সাধারণ সভা ৪ অক্টোবর
প্রস্তাবগুলো শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের জন্য বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিটি ব্যাংক। প্রয়োজনীয় বিশেষ প্রস্তাবের মাধ্যমে এসব বিষয়ে শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন নেওয়া হবে।
ব্যাংকের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ৪ অক্টোবর ২০২৬ ইজিএম অনুষ্ঠিত হবে। সভা শুরু হবে বিকেল ৩টায়। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এই সভা আয়োজন করা হবে।
ইজিএমে অংশগ্রহণ ও ভোটদানের জন্য যোগ্য শেয়ারহোল্ডার নির্ধারণে ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন লাগবে
সিটি ব্যাংকের প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো কেবল শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে না। এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, সম্মতি বা অনাপত্তি নিতে হবে।
পাশাপাশি প্রযোজ্য সব আইন, বিধি, প্রবিধান এবং চুক্তিগত বাধ্যবাধকতা পরিপালন করতে হবে। ফলে ইজিএমে শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদন পাওয়ার পরই প্রস্তাবগুলো কার্যকর করার প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।
পরে প্রকাশ করা হবে বিস্তারিত নোটিশ
ব্যাংকটি জানিয়েছে, বিশেষ সাধারণ সভার বিস্তারিত নোটিশ, ব্যাখ্যামূলক বিবরণী এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য নথি যথাসময়ে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য প্রকাশ ও সরবরাহ করা হবে। প্রযোজ্য নিয়ন্ত্রক বিধান অনুযায়ী এসব নথি প্রচার করা হবে।
সিটি ব্যাংকের কোম্পানি সচিব ডি. কাফি খান স্বাক্ষরিত চিঠিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। চিঠিটি ১৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে পাঠানো হয়।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, অনুমোদিত মূলধন বৃদ্ধি ব্যাংকের ভবিষ্যত সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ। পরিচালকের সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব করপোরেট গভর্ন্যান্সে পরিবর্তন আনতে পারে। তবে এজন্য শেয়ারহোল্ডার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ৪ অক্টোবর ইজিএমের দিকে তাকিয়ে থাকবেন বিনিয়োগকারীরা।
Posted ১২:০০ পিএম | রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
sharebazar24 | sajed khan
.
.